বর্ষার পর গবাদিশুর রোগ-বালাই

বর্ষার পানি জমি থেকে সরে যাওয়ার পরপরই গবাদিপশুর কয়েকটি মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন, ্অ্যানথ্রাক্স, বাদলা, ক্ষুরা রোগ, ডাইরিয়া, ডিসেন্ট্রি প্রোটোজোয়া ইত্যাদি। এ সময়ে কুকুরের উপদ্রবও বৃদ্ধি পাওয়ায় জলাতংক রোগও দেখা দেয় । বিভিন্ন রোগের জীবানু এ সময় মাটি মেশানো ঘাষ ও পানির মাধ্যমে গবাদিপশুর দেহে প্রবেশ করে। এ ক্ষেত্রে রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগের প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ। আবার এমন এমন কিছু রোগ আছে যা হলে চিকিৎসার সময় পাওয়া যায় না। যেমন, অ্যানথ্রাক্স, বাদলা (বিকিউ), গলাফুলা রোগ ইত্যাদি। এ জন্য খামারিকে অবশ্যই উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্তকর্তা বা ভেটেরিনারি সার্জনের পরামর্শ মত টিকা দিতে হবে। কোন অপরিচিত ব্যক্তিকে দিয়ে টিকা দেবেন না। অনেক সময় প্রতারক দল টিকা দেওয়ার নামে অন্যকিছু পুশ করে টাকা হাতিয়ে নেয়।

জমি থেকে বর্ষার পারি নেমে যাওয়ার পর জমিতে গজানো ঘাস খাওয়ানোর জন্য মাঠে গবাদিপশু চরাবেন না। এ ঘাসের মূলসহ মাটি খাওয়ার কারণেই অ্যানথ্রাক্স, বাদলাসহ বিভিন্ন রোগ-জীবানু গবাদিপশুর দেহে প্রবেশ করতে পারে। অন্যদিকে ডাইরিয়া, আমাশয় এবং বিষক্রিয়াও হতে পারে। মুচি ও চামড়া সংগ্রহকারী অনেক সময় রাস্তার পার্শে বাধা গরুকে কলা পাতা বা পাকা কলার মাধ্যমে বিষ খাইয়ে প্রাণীর মৃত ঘটায়। উদ্দেশ্য মৃত গরুর চামড়া বিনা মুল্যে সংগ্রহ করা। এদের থেকে সাবধান থাকুন। এ সময় কোনোভাবেই রোগাক্রান্ত গরু মারা যাওয়ার পর চমড়া ছাড়াবেন না, এতে জীবাণু সুস্থ প্রাণিতে সংক্রামিত হতে পারে, পাশাপাশি আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন এই রোগ-জীবাণু দ্বারা। গবাদিপশুর চিকিৎসা, রোগ দমনসহ যেকোনো পরামর্শের জন্য স্থানীয় ভেটেরিনারি সার্জনের পরামর্শ নিন। কোয়াক ডাক্তার, কবিরাজের অপচিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক দ্বারা আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা করাতে যাবেন না তাতে লাভের চেয়ে লোকশানই হবে বেশী।

প্রকাশিত:দৈনিক ইত্তেফাক, তারিখ ১৮/৯/২০১১ ইং পূষ্ঠা ১১।cattle disease after flood

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *