জননেন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেন এক নতুন বিপ্লব

স্বাপরিবারে আত্মীয় স্বজনসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সালে গভীর রাত্রে হত্যাকরার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শূন্যতা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তাঁর আদরের দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সপরিবারে পিতার মৃত্যুর পর প্রবাস জীবন বাধ্যতামূলক হয়ে যায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার জন্য কারণ যে কোন সময়ে তাদেরও হত্যা করতে পারে ঐ ঘাতকরা। শেখ হাসিনা বিদেশে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়।

সুদীর্ঘ প্রায় ছ’বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী পদের দায়িত্বভার গ্রহন এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সামাল দেওয়ায় বাংলাদেশে আগমনের পদক্ষেপ গ্রহন করেন। সে লক্ষ্যে ঢাকা রওয়ানা হওয়ার প্রাক্কালে নয়াদিল্লিতে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা পরিহার করার জন্য জিয়াচক্রের তীব্র সমালোচনা করেন। সংবিধানের চার মূলনীতি, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন “এই মুলনীতিগুলো ভূলে যাওয়া মানে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। মৌলিক নীতির ব্যাপারে আপসের কোনো স্থান নেই এবং প্রশ্নই আসে না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যতোদিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও অন্যদের হত্যার বিচার অনুষ্ঠিত না হয়, ততো দিন পর্যন্ত সুস্থ মস্তিস্কে হত্যার গ্লানি প্রত্যেক খাঁটি বাঙালির বিবেকের ওপর গুরুভার হয়ে থাকবে। তাছাড়া, এ যাবৎ কারো বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন না করা ‘ মানবতার প্রতি অপমানজনক’।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ মে ১৯৮১ তারিখ রোজ রবিবার ভারতকে অশ্র“সজল চোখে বিদায় জানান। কলকাতা বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার ছ’বছরের প্রবাসকালে আমার প্রতি যে মমতা ও ভালবাসা জানান হয়েছে, তার জন্য আমি ভারতের জনগণকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই”। ইন্ডিয়ান এয়ার লাইন্সের একটি বয়িং বিমানে করে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

শেখ হাসনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকা বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে।‘সাপ্তাহিক রাজনীতি’ নামক পত্রিকায় ‘স্বাগতম শেখ হাসিনা; শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, “শেখ হাসিনা দেশের বুকে ফিরে আসছেন নির্যাতিত-শোষিত মানুষের মুক্তির মন্ত্র নিয়ে, স্বৈরাচার উৎখাত ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত বিপ্লব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্দ গণআন্দোলনের আহ্বান নিয়ে”।আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভানেত্রীকে ঐতিহাসিক অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ঊক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁকে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন এবং শেরে-বাংলানগরে গণসংবর্ধানাদানের জন্য আয়োজিত সমাবেশে যোগদানের ঊদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে দেশের সকল এলাকা থেকে অগনিত বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার মানুষ বিশেষ করে ছাত্ররা ঢাকা এসে পৌঁছে। “বঙ্গবন্ধুর বংশেল প্রদীপ, ঐতিহ্যের ধারক ও স্মৃতির প্রতীক” শেখ হাসিনাকে একনজর দেখার জন্য কিশোর, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ নির্বিশেষে বাস, ট্রাক, লঞ্চ, স্টিমার ও ট্রেনযোগে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকা এসে সমবেত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিবিন্ন জেলা থেকে মিছিলের পর মিছিলের স্রোত এসে আছড়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকার উপক’লে। উঠছে গগণবিদারী শ্লোগান “ জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” “বঙ্গবন্ধুর রক্ত বৃথা যেতে দেব না” আদর্শের মৃত্যু নেই, হত্যাকারীর রেহাই নেই।” “খুনী তুমি যেই হও বিচার তোমার পেতেই হবে”।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার সংবাদ পরদিন ১৮ মে ১৯৮১ ঢাকার বিভিন্ন সংবাদপত্রে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হয। দৈনিক “সংবাদ”-এ প্রকাশিত রির্পোট বলঅ হয়, “লাখো জনতা অকৃপণ প্রাণঢালা অভ্যর্থণার মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয় তাদের নেত্রীকে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকা যে অনন্য রুপ ধারণ করে সে সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়। রাজধানী ঢাকা মিছিলের রাজধানীতে পরিণত হয়েছিল। শুধু মিছিল আর মিছিল। প্রচন্ড ঝঢ়-বৃষ্টিও মিছিরের গতিরোধ করতে পারেনি। শ্লোগানেও ভাটা পড়েনি। নগরীকে প্রকম্পিত করেছে। জয়বাংলা-জয়বঙ্গবন্ধু ধ্বনীতে আকাশ-বাতাস একাকার।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশ এসেছিলেন, সেদিন স্বজন হারাবার ব্যাথা ভূলে গিয়েও লাখ লাখ জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এক নজর স্বচক্ষে দেখার জন্য। একইভাবে শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখার জন্যও ঢাকায় মানুষের ঢল নেমেছিল। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরে বাংলা নগর পরিণত হয়েছিলো জনসমূদ্রে। ফার্মগেট থেকে কুর্মিটোলা বিমানবন্দর পর্যন্ত ট্রাফিক বন্ধ ছিলো প্রায় ছয় ঘন্টা। (দৈনিক ‘সংবাদ, ঢাকা ১৮ মে১৯৮১)।
আরও একটি রিপোর্টে বলা হয় কখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ার লাইন্সের বোয়িং বিমান অবতরণ করবে সেদিকে নজর রেখে লক্ষাধিক মানুষ বিমানবন্দর এলাকায় অধীর অপেক্ষা করছিল। বিকাল সাড়ে তিনটা থেকেই বিমানবন্দরে কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। হাজার হাজার মানুষ ভিআইপি লাউঞ্জের গেইটে নিয়োজিত পুলিশের বেষ্টনি ভেদ করে প্রথমে দেয়ালের ওপর ওঠে। একই সময়ে বিমানবন্দর ভবনের দোতলায় কন্ট্রোল টাওয়ারের যেখানে ওঠা সম্ভব সেখানেই জনতা উঠে যায়। পুলিশ বার বার চেষ্টা করেও তাদের সরাতে পারেনি। বিমান অবতরণের সময় যতোই এগিয়ে আসছিলো, বাইরে অপেক্ষমান জনতার স্রোত ততোই উদ্বেগাকুল হয়ে উঠেছিলো। বিমানবন্দরের বাইরে হাজার হাজার দর্শক বিল্ডিংয়ের ছাদ, রাস্তা ফুটপাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। পুলিশ প্রথম থেকেই বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। তাঁরা জনতাকে অতি অল্প সময়ের জন্য বিমানবন্দরের কাছাকাছি আসা থেকে বিরত রাখলেও পরে জনতা বিমানবন্দরের সামনে পুলিশ বেরিকেড ভেঙ্গে ফেলে। তিনটা বিশ মিনিটে তারা দেয়াল টপকে ভিআইপি লাউঞ্জের সামনে বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবকরা শত চেষ্টা করেও তাদের সরাতে পারেনি।

বিকেল সাড়ে তিনটার সময় বিমানের একটি বোয়িং আকাশে দেখা গেল। হঠাৎ করে হাজার হাজার মানুষ বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকে একেবার বিমানবন্দরের রানওয়ে পর্যন্ত চলে যায়। আওয়ামী লীগের নেতা সৈয়দ আহমদ ও মোহাম্মদ হানিফ জীপে করে মাইক দিয়ে তাদের রানওয়ে ও টারম্যাক থেকে সরে যাওয়ার জন্য অসংখ্যবার অনুরোধ করার পর জনতাও আগ্রহ্য করে হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরের ভিতরে ঢুকে যায়। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সমসাময়িক ইতিহাসে নজীরবিহীন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশেরা নীরবে এ দৃশ্য অবলোকন করা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। বিমানের চারদিকে ঘিরে এতো লোক ছিলো যে শেখ হাসিনাকে বয়ে আনার জন্য যে ট্রাকটি বিমানের ককপিটের দরজার একবারে সামনে নেয়া হয়। দরজা খোলার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক মালা হাতে ট্রাক থেকে লাফিয়ে বিমানের ভেতরে গিয়ে দলীয় সভানেত্রীকে মাল্যভূষিত করেন। এই সময় শেখ হাসিনা ভেতর থেকে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। অস্বাভাবিক ভিড়ের মধ্যে বিমানের সিঁড়ি দিয়ে বিমান থেকে ট্রাকে নেমে আসেন শেখ হাসিনা।

এই সময় লাখো জনতার কন্ঠে ছিলো গগণবিদারী স্লোগান-‘শেখ হাসিনা তোমায় কথা দিলাম, মুজিব হত্যার বদলা নেব’ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শেখ হাসিনা, শুভেচ্ছা স্বাগতম’। এসময় অনেকের চোখেই ছিলো অশ্র“ধারা। বিমান থেকে নামার আগে রাজ্জাক সাহেব যখন শেখ হাসিনার গলায় মালা দেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। কলকাতা বিমানবন্দরে এবং ঢাকা আসার পথে শেখ হাসিনা অঝোরে কাঁদছিলেন বলে জানা যায়। সমনে পিছনে বিপুল জনতার ভীড় ঠেলে বিমান থেকে ভিআইপি লাউঞ্জ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে নিয়ে আসতে ট্রাকটির অনেক সময় কেটে যায়। হাসিনা হাত নেড়ে দু’পাশের জনতাকে অভিনন্দন জানান। বিমান থেকে নামার সময় থেকেই অত্যন্ত বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। ট্রাকে আসার সময় তাঁর ডানদিকে ছিলেন ফুপাতো ভাই শেখ সেলিম এবং বামদিকে আইভি রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ঐ দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন। পৌনে-পাঁচটায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে মিছিল শুরু হওয়ার পরপরই চারদিকে অন্ধকার করে বৃষ্টি শুরু হয়। মুষলধারে বৃষ্টি আর ঝড়। এরই মাঝে ট্রাকে ও রাস্তার দু’পাশের জনতার কন্ঠে শ্লোগান “মাগো তোমায় কথা দিলাম, মুজিব হত্যার বদলা নেব”। বর্ষণসিক্ত শেখ হাসিনা ঝড়ের মাঝেও দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে যাচ্ছিলেন বনানী থেকে শেরেবাংলানগর। বনানীতে শেখ হাসিনা মায়ের ও নিহত পরিজনদের কবর জিয়ারত করেন। কবরস্থানে তিনি অঝোর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং বলতে থাকেন, ‘মা আমাকে কেন রাখিয়া গেলে?

কুর্মিটোলা থেকে শেরেবাংলা নগর আট মাইল রাস্তা। প্রায় তিন ঘন্টা যাত্রান্তে শেখ হাসিনা শেরেবাংলা নগর পৌঁছেন। ঝড়-বৃষ্টিতে নগরজীবন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত। ঝড়-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শেরেবাংলা নগরে অপেক্ষায় থাকেন লাখ লাখ মানুষ। শেখ হাসিনাকে একনজর দেখবেনই। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি গণসংবর্ধণা সভার মঞ্চে ওঠেন।

তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু হত্যাসহ পরবর্তীকালে বিভিন্ন হত্যাকান্ডের বিচার চাই। চাই বাংলার জনগণ তথা আপনাদের কাছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার বিচার করবে না। ওদের কাছে বিচার চাইবোনা। আপনারা আমার সাথে ওয়াদা করুন, বঙ্গবন্ধুর ‘দ্বিতীয় বিপ্লবে’র কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য নেতা হত্যার বিচার করবো ইনশাআল্লাহ।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ‘দ্বিতীয় বিপ্লবে’র কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধু যে পদ্ধতি চালু করতে চেয়েছিলেন, তা যদি বাস্তবায়িত হতো তা হলে আজকে বাংলার মানুষের আর দুঃখ থাকতো না। সত্যিকার অর্থেই বাংলা সোনার বাংলাতে পরিণত হতো। শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত লাখো জনতার গণসংবর্ধণা ছিলো আনন্দঘণ ও হৃদয় বিদারক। দলীয় নেত্রীর আগমনে নেতা সর্মীদের মধ্যে ছিলো আনন্দ, উল্লাস আর উচ্ছ্বাস। অন্যদিকে আপনজন হারা নেত্রীর দুঃখ আর বেদনার কথা আওয়ামী লীগনেতা ও কর্মীদের এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বক্তৃতাদানকালে শেখ হাসিানা কয়েকবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আজকের জনসভায় লাখো মানুষের মুখ আমি দেখেছি। শুধু নেই আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু, মা আর ভাইয়েরা এবং আরো অনেক প্রিয়জন। ভাই রাসেল আর কোনদিন ফিরে আসবে না। আপা বলে ডাকবে না। সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন। আমি বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধু আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার-পরিজনদের হত্যাকরে বলেছিল জিনিস পত্রে দাম কমাবো, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। আজ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য আকাশচুম্বী। কৃষক তার ন্যায্য পাওনা পাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দিনে-দুপুরে রাস্তায় মানুষ খুন করা হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দরিদ্র দেশে পরিনত হয়েছে। সাধারণ মানুষ ঠিকমত খেতে পায় না আর একশ্রেণীর মানুষ প্রচুর সম্পদের মালিক হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতার গদি পাকাপোক্ত করার জন্য ওরা আগামীদিনে বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করবে। আবার বাংলার মানুষ শোষনের শৃঙ্খলায় আবদ্ধ হচ্ছে। আমি চাই বাংলার মানুষের মুক্তি। বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছিলেন। আজ যদি বাংলার মানুষের জন্য মুক্তি না আসে তবে আমার মৃত্যুই শ্রেয়। আমি আপনাদের পাশে থেকে সংগ্রাম করে মরতে চাই।

শেখ হাসিনা দৃঢ়কন্ঠে বলেন, স্বাধীনত ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য স্বাধীনতাযুদ্ধে জাতি রক্ত দিয়েছে কিন্তু আজ স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে চলছে। ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম করি।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, আপনাদের ভালোবাসা পাথেয় করে আমি আগামীদিনের যাত্রা শুরু করতে চাই। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত চার রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়ন ও শোষনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন চলবেই। (দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা ১৮ মে, ১৯৮১)।

১৮ মে সকালে শেখ হাসিনা দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মিলিত হন এবং পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিকেল বেলা তিনি বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া রওনা হন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন থেকে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের শোষিত, লাঞ্চিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য সংগ্রাম। তিনি নিজের জীবনকে বাজি রেখে দৃঢ় প্রত্যয় সামনে রেখে আজও সেই কন্ঠকাকীর্ণ নির্ভীক সৈনিকের মতো পথ চলছেন। আজ তারই দিক নির্দেশনায় সকল সেক্টরেই উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নয়ন ঘটছে। ২০০৯ সালের নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী ভিষণ ২০২১ বাস্তবায়ণে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান এবং মধ্যম আয়ের দেশ গড়াই মূল লক্ষ্য।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial